পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন প্রতিষ্ঠান যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের চলতি ২০২৪-২৫ হিসাব বছরের প্রথমার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) কর-পরবর্তী মুনাফা হয়েছে ২৬৪ কোটি টাকা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ২০৪ কোটি টাকা। এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির মুনাফা বেড়েছে ২৯ দশমিক ৫৯ শতাংশ। কোম্পানিটির চলতি হিসাব বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকের (অক্টোবর-ডিসেম্বর) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
এছাড়া যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) ২২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। এর পরিবর্তে সভাটি ২৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। অনিবার্য কারণবশত এজিএমের তারিখ পরিবর্তন করা হয়েছে। এ-সংক্রান্ত অন্যান্য তথ্য অপরিবর্তিত থাকবে। গতকাল স্টক এক্সচেঞ্জ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি ২০২৪-২৫ হিসাব বছরের প্রথমার্ধে যমুনা অয়েলের শেয়ারপ্রতি সমন্বিত আয় (ইপিএস) হয়েছে ২৩ টাকা ৯২ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ১৮ টাকা ৪৬ পয়সা। গত ৩১ ডিসেম্বর শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি সমন্বিত নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ২৫৯ টাকা ৫৭ পয়সায়।
চলতি হিসাব ২০২৪-২৫ বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছে ১৪০ কোটি টাকা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ১২০ কোটি টাকা। আলোচ্য প্রান্তিকে কোম্পানিটির ইপএস হয়েছে ১২ টাকা ৬৮ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ১০ টাকা ৮৬ পয়সা।
সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২৩-২৪ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য ১৫০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে যমুনা অয়েলের পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৪০ টাকা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৩০ টাকা ৮৭ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৪ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ২২৮ টাকা ৬১ পয়সায়।
সমাপ্ত ২০২২-২৩ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য ১৩০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে যমুনা অয়েলের পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৩০ টাকা ৮৭ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ১৬ টাকা ৮৭ পয়সা। গত ৩০ জুন ২০২৩ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ২০৫ টাকা ৪৯ পয়সায়।
সমাপ্ত ২০২১-২২ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য ১২০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছিল যমুনা অয়েল। ২০২০-২১ হিসাব বছরেও বিনিয়োগকারীদের ১২০ শতাংশ নগদ দিয়েছিল যমুনা অয়েল। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ১৮ টাকা ২৪ পয়সা, যা আগের বছর ছিল ১৮ টাকা ১৩ পয়সা। ২০১৯-২০ হিসাব বছরেও ১২০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ পেয়েছিলেন কোম্পানিটির শেয়ারহোল্ডাররা। ২০১৮-১৯ হিসাব বছরে শেয়ারহোল্ডারদের ১৩০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল কোম্পানিটি। ২০১৭-১৮ হিসাব বছরেও একই হারে নগদ লভ্যাংশ দেয় তারা। এছাড়া ২০১৬-১৭ হিসাব বছরে ১১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ পেয়েছিলেন কোম্পানিটির শেয়ারহোল্ডাররা।
যমুনা অয়েলের ঋণমান দীর্ঘমেয়াদে ‘ডাবল এ প্লাস’ ও স্বল্পমেয়াদে ‘এসটি-ওয়ান’। ৩০ জুন সমাপ্ত ২০২৩ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৩ পর্যন্ত অনিরীক্ষিত প্রতিবেদন এবং রেটিং ঘোষণার দিন পর্যন্ত প্রাসঙ্গিক অন্যান্য পরিমাণগত ও গুণগত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এ প্রত্যয়ন করেছে ইমার্জিং ক্রেডিট রেটিং লিমিটেড (ইসিআরএল)।
২০০৭ সালে তালিকাভুক্ত যমুনা অয়েলের অনুমোদিত মূলধন ৩০০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ১১০ কোটি ৪২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ২ হাজার ১৮৬ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। কোম্পানিটির মোট ১১ কোটি ৪ লাখ ২৪ হাজার ৬০০টি শেয়ার রয়েছে। এর মধ্যে ২ দশমিক ৯০ শতাংশ উদ্যোক্তা পরিচালক, ৬০ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ সরকার, ২৭ দশমিক ৮৯ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী, দশমিক ১৮ শতাংশ বিদেশী বিনিয়োগকারী ও বাকি ৮ দশমিক ৯৫ শতাংশ শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে।